দেশের সেরা ৫ স্টার্ট আপ

বাংলাদেশ থেকে বিশ্বে প্রতিনিধিত্ব করতে পারে এমন স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান দেশে ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান বিশ্ব দরবারে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করে দিতে সক্ষম হয়েছেন। অনেক প্রতিষ্ঠান একাধিক বিদেশি বিনিয়োগও পেয়েছেন।

 

 

বাংলাদেশ থেকে বিশ্বে প্রতিনিধিত্ব করতে পারে এমন স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান দেশে ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের নীতি নির্ধারকরা বাংলাদেশ থেকে গুগল-ফেসবুক তৈরির যে তাগাদা দিচ্ছিলেন তার বড় একটি পূরণ করতে কাজ করছে স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানগুলো। ইতোমধ্যে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান বিশ্ব দরবারে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করে দিতে সক্ষম হয়েছেন। অনেক প্রতিষ্ঠান একাধিক বিদেশি বিনিয়োগও পেয়েছেন। তবে প্রয়োজন মতো আরও বিনিয়োগ পেলে এসব প্রতিষ্ঠান একদিন বাংলাদেশের গুগল-ফেসবুক হয়ে উঠবে। বাংলাদেশ থেকে উঠে আসা এমন বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সেরা ৫টি স্টার্টআপের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো।

বিল্যান্সার

বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সিং খাতকে আরও একধাপ এগিয়ে নিতে ২০১৩ সালে ‘আমার ডেস্ক’ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেন মো. শফিউল আলম। ফ্রিল্যান্সার মার্কেটপ্লেসের মতো এতো বড় একটি প্লাটফর্মের যে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ তা স্টার্টআপ উদ্যোগ অনেকটা অসম্ভব ছিল। এরপরেও সারা বিশ্বের বায়ার বা ক্লায়েন্টদের কাছে ব্যাপক ব্র্যান্ডিং, মার্কেটপ্লেসের নির্ভরযোগ্য কারিগরি সক্ষমতা, পেইমেন্ট পদ্ধতি, ইনভেস্টমেন্ট, ফ্রিল্যান্সার এবং ক্লায়েন্টের আস্থা ও আগ্রহের তৈরি ইত্যাদি বিষয়ে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কাজ করেন শফিউল আলম। এ উদ্যোগ সম্পর্কে জানাতে তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি নিজ থেকেই ‘আমার ডেস্ক’ নামটি পরিবর্তন করে ‘বিল্যান্সার’ নাম রাখেন। এরপর ২০১৫ সালের ১৭ মার্চ ‘বিল্যান্সার’ নামের ডোমেইনটি কেনা হয়। সম্প্রতি বিল্যান্সার প্রতিবেশি দেশগুলোতে কার্যক্রম শুরু করার উদ্যোগ নিয়েছে। ফলে এ উদ্যোগের মাধ্যমে বিদেশেও বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল হতে যাচ্ছে।

রিং আইডি

কানাডা প্রবাসী বাংলাদেশি আইরিন ইসলাম ও শরিফ ইসলামের যৌথ উদ্যোগে ‘রিং আইডি’ নামের নতুন আন্তর্জাতিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যাত্রা শুরু করেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো এই সামাজিক মাধ্যমটির বাংলাদেশেও অপারেশন শুরু হয়েছে গত ১২ ফেব্রুয়ারি। কানাডার কিউবেকের মন্ট্রিয়েল সিটিতে বসবাসরত আইরিন ও শরিফ ইসলাম এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটি নিয়ে কাজ শুরু করেন ২০০৫ সাল থেকে। ওই বছর ৩ জুন রিং আইডি নামের একটি ডোমেইন রেজিস্ট্রেশন করেন। ২০১২ সাল থেকে একটানা রিং আইডি নিয়ে কাজ করে অবশেষে এ বছর যাত্রা শুরু করলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটি। রিং আইডি মাধ্যমে বিনামূল্যে কল করা, মেসেজ, বেশকিছু স্টিকার, গোপন চ্যাট (সিক্রেট চ্যাট) করার সুবিধা রয়েছে। এছাড়াও এই অ্যাপ্লিকেশনটিতে রয়েছে বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার সুবিধা। সম্প্রতি বাংলাদেশে শেষ হওয়া এশিয়াকাপের স্পন্সর হওয়ার পর ব্যাপক আলোচনায় আসে রিং আইডি।

চলো 

বাংলাদেশের প্রথম অন ডিমান্ড সার্ভিস চালু করে চলো ডটকম। ব্যাক্তিগত গাড়ি না থাকলেও তুলনামূলক কম খরচে দ্রুত গাড়ি প্রাপ্তির ব্যবস্থা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ফলে এখন যাত্রীদের আর রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয় না। আর এই রাস্তায় দাঁড়িয়ে না থাকার ফলে গাড়ি রাস্তায় পার্ক করা থাকছে না। ফলে যানজট হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। এছাড়া এই সেবাকে প্রইভেট কারের রিপ্লেস বলা যেতে পারে। এটা এমন একটি আর্থিক পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে যে যাত্রী মনে করতে পারেন তার নিজের গাড়ি থাকলেও এই পরিমাণ খরচ হতো। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দেওয়ান শুভ যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অবস্থায় বাংলাদেশে এই সেবাটি চালু করেন ২০১৫ সালে। বাংলাদেশে ব্যবসা ভালো হওয়ার কারণে তিনি আপাতত দেশেই অবস্থান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এছাড়া এরই মধ্যে তাঁর অন ডিমান্ড সার্ভিস ব্যাপক আলোচনায় আসার পর একাধিক প্রতিষ্ঠান থেকে বিনিয়োগ পেয়েছেন। এছাড়া অনেক দেশি বিদেশি প্রতিষ্ঠান চলোতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

নিউজক্রেড 

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কনটেন্ট মার্কেটিং প্ল্যাটফর্ম নিউজক্রেড। প্রতিটি সংবাদপত্রকে সংবাদ সংগ্রহ করতে হয় এবং সংবাদ বিক্রিও করতে হয়। আর এ কাজটি হতে হয় তাৎক্ষণিকভাবে। সেই সংবাদকে সহজলভ্য ও সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া; তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে সাংবাদিকতা, সংবাদ সেবাকে নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপন করাই নিউজক্রেডের মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশের তিন তরুণ নিউজক্রেডের প্রতিষ্ঠাতা শাফকাত ইসলাম এবং সহ-প্রতিষ্ঠাতা আসিফ রহমান ও ইরাজ ইসলামের এ উদ্যোগ নেওয়ার পর থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিউজক্রেডের গ্রাহক বৃদ্ধি হতে থাকে। ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত নিউজক্রেড বর্তমানে বারক্লেজ, সিসকো, নাসডাক, পেপসি, টয়োটা এবং ভিসার মতো প্রতিষ্ঠানের জন্য কনটেন্ট মার্কেটিংয়ের কাজ করছে। ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠানটির আয় তিন গুণ বৃদ্ধি পায় এবং গ্রাহক বৃদ্ধি পায় ২ গুণ। ২০১৫ সালে ৪২ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ লাভ করেছে। এই বিনিয়োগে নেতৃত্ব দিয়েছে এফটিভি ক্যাপিটাল।

অ্যাপ বাজার

বাংলাদেশের প্রথম দেশীয় অ্যাপসের মার্কেটপ্লেস ‘অ্যাপ বাজার’ ২০১৫ সালের অক্টোবরে কার্যক্রম শুরু করলেও চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে। গুগলের প্লেস্টোর থেকে পেইড অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড এবং দেশীয় ডেভেলপারদের তৈরি অ্যাপ প্লেস্টোর বা অ্যাপস্টোরে বিক্রির পর অর্থ উদ্ধার করতে গিয়ে পড়তে হয় বিপাকে। এসব যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতেই দেশে অ্যাপবাজার চালু হয়। বাংলা এবং ইংরেজি ভাষাতে অ্যাপবাজার মূলত প্লেস্টোর বা অ্যাপস্টোরের আদলে তৈরি করা হয়েছে। ব্যবহারকারী এবং ডেভেলপারদের জন্য চ্যাটিং ও অ্যাপ উপহার দেওয়ার সুবিধা ছাড়াও ডেভেলপাররা বিনামূল্যে এ স্টোরে অ্যাপ রাখতে এবং গ্রাহকরা তা ডাউনলোড করতে পারবেন। এতে থাকবে নিজস্ব ওয়ালেট, গিফট সিস্টেম এবং বিজ্ঞাপন দেয়ার সুযোগ ।প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নিবার্হী কর্মকর্তা শফিউল আলম।

ধন্যবাদ। সুস্থ থাকুন এবং অনলাইনে থাকুন।

This news has been collected from the site http://tech.priyo.com/

Unknown More information-আরো অজানা তথ্য জানতে = Click Me

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

w

Connecting to %s