অফিসে উৎকট সাজ নয়

কোন অনুষ্ঠানে কী পোশাক পরবেন, তা আগে থেকেই ঠিক করে নেওয়া প্রয়োজন। উৎসবের সময় যে পোশাক পরে থাকেন তা পরে অফিসে যাওয়া যায় না। অতিরিক্ত উজ্জ্বল রঙের পোশাক, জমকালো ছাপার পোশাক পরে অফিসে যাবেন না।

Office

অফিসে আপনাকে স্মার্ট এবং পরিবেশের উপযোগী দেখানো উচিত। কিছু কিছু অফিসে যেমন খুশি পোশাক পরার স্বাধীনতা থাকলেও আমার মনে হয় অফিসের পোশাকে এক ধরনের শৃঙ্খলা থাকা উচিত। মনে করুন কোনও ব্যাঙ্ক ম্যানেজার যদি জিনস্ আর টিশার্ট পরে অফিসে আসেন, তা হলে কেমন দেখাবে? আপনি কি এমন পোশাক পরা ম্যানেজারকে দেখে বিনিয়োগের কথা ভাবতে পারবেন? তার বদলে যদি স্যুট-টাই পরে তাঁরা অফিসে আসেন, আপনি অনেক বেশি ভরসা পাবেন তাঁকে দেখে। মেয়েদের ক্ষেত্রেও তাই। ব্যাঙ্কের উচ্চপদস্থ মহিলারা যদি গাঢ় রঙের প্যান্ট পরেন বা পেন্সিল স্কার্ট পরেন সাদা শার্টের সঙ্গে তা হলে তাঁদের স্মার্ট দেখায়। এবং আপনিও আর্থিক বিষয়ে তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করতে স্বচ্ছন্দ বোধ করেন। অফিসের কর্মীদের পোশাকআশাকে এক ধরনের ছিমছাম ভাবা থাকা খুবই জরুরি।

কিন্তু অফিসে যাওয়ার সময় অনেকেই এই সব ভাবনা মনে রাখেন না। বাইরে যে সমস্ত পোশাক পরে যান, সেই পোশাকেই তাঁরা অফিসে চলে যান। তার চাইতে বরং ইস্ত্রি করা শার্ট-প্যান্ট যদি রাখা হয় অফিসে যাওয়ার জন্য, তা হলে বেশ মানানসই হয়। সঙ্গে থাকুক ফর্ম্যাল জুতো।

অফিসে যাওয়ার ক্ষেত্রে মেয়েদের পোশাকআশাকের বৈচিত্র অনেক। তাঁরা পরতে পারেন শাড়ি, সালোয়ার কামিজ, ইন্দো-ওয়েস্টার্ন, এবং ওয়েস্টার্ন পোশাকআশাক। তবে যে পোশাকই পরুন, তা যেন অতিরিক্ত ঝলমলে না হয়। তবে মুশকিল হল, মেয়েরা অনেক সময়ই অফিসে নানা মিটিংয়ে যাবার আগে বেশি ঝলমলে জামাকাপড়় পরে ফেলেন। আমার একটাই কথা পোশাকআশাক পরার সময় বা়ড়াবা়ড়ি করবেন না। এমন কিছু পোশাক পরবেন না যাতে অন্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ হয়। ক়ড়া পারফিউম, উজ্জ্বল মেক আপ বা বেশি চটকদার, খোলামেলা জামাকাপড় কাজের জায়গায় না পরাই ভাল।

একটা কথা মাথায় রাখবেন। আপনি কী ভাবে কথা বলছেন, আপনার ব্যক্তিত্ব কতটা প্রখর— সেটাই কিন্তু কাজের জায়গার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। পোশাকআশাক কতটা ঝলমলে সেটাতে কিন্তু কিছু যায় আসে না।

পার্টি হোক বা বাড়ির অনুষ্ঠান বা পিকনিক— একেক জায়গার পোশাক নির্বাচন হতে হবে একেক রকম। তবে অফিসের পোশাক পরিচ্ছন্ন, ডিগনিফায়েড হওয়াটা খুব দরকার। চুলের স্টাইলেরও যেন পোশাকের সঙ্গে সামঞ্জস্য থাকে। অতিরিক্ত গয়না পরে ফেলবেন না। মন থাকুক কাজে। বা প্রেজেন্টেশনটা ক্লায়েন্টকে ঠিক ভাবে দিতে পারছেন কি না তার ওপর। পোশাক যদি পরিচ্ছন্ন এবং সম্ভ্রান্ত হয়, তা হলে কাজের জায়গায় ভাবনাচিন্তাটাও স্বচ্ছ হবে। উৎকট সেজে অফিসে যাবেন না।

একটা ঘটনার কথা মনে পড়ছে। আমার এক সহকর্মীকে অফিসের পরেই এক গুরুত্বপূর্ণ পার্টিতে যেতে হবে। সে বলেছিল একেবারে সেজেগুজে অফিসে চলে আসবে। ও প্রথমে আমার বাড়িতে এল। সেখান থেকে আমাদের দু’জনের একসঙ্গে অফিস যাওয়ার কথা। আর সে কী ভয়ানক দৃশ্য! অত সকালে চুলে কায়দার বান করা আর নানা রঙে আর সিক্যুইনে ঝলমলে শিফন শাড়ি। ভাগ্য ভাল, তখনও কিছুটা সময় ছিল আমাদের হাতে। আমি ওকে আমার একটা তাঁতের শা়ড়ি আর একটা কালো রঙের স্ট্রেচেবল লাইক্রা টপ দিয়েছিলাম পরতে। কালো যেহেতু নিউট্রাল রং তাই সব শাড়ির সঙ্গেই যায়। ওর ওই ঝলমলে ফ্যান্সি শাড়ি, ব্লাউজ, মুক্তোর গয়না সব প্যাক করে নিয়ে চলে যাই অফিস। আর ও-ও বলে যে পাঁচতারা হোটেলে পার্টি, সেখানকার মেয়েদের চেঞ্জিং রুমে পোশাক বদলে নেওয়াটাই সবচেয়ে সুবিধে হবে। ও এমনকী ওর বাহারি খোঁপা খুলে চুলটাকেও অফিস যাওয়ার মতো ঠিকঠাক করে নেয়। যে সাজে ও আমার কাছে এসেছিল, সেই সাজে অফিস গেলে সাঙ্ঘাতিক ব্যাপার হত।

তবে মেয়েরা যেখানেই যান, হ্যান্ডব্যাগে সব সময়ই একছড়া মুক্তোর হার, মেক আপ আর ফেস পাউডার সঙ্গে রাখুন। পারলে একটা স্টোল-ও। মেয়েরা কিন্তু এই ব্যাপারটায় ছেলেদের থেকে সব সময়ই এগিয়ে।
ঠিক বলেছি না বলুন?

সূত্রঃ বিনোদন নিউজ

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s