আদিম মানুষের নতুন রূপের সন্ধান মিলল দক্ষিণ আফ্রিকায়

মানবজাতির পূর্বপুরুষের এক নতুন রূপের সন্ধান মিলল দক্ষিণ আফ্রিকার প্রত্যন্ত গুহায়। নবতম এই আদিম মানুষের জীবাশ্মের নাম রাখা হয়েছে হোমো নালেদি। এই আবিষ্কারে বদলে যেতে পারে মানুষের জন্মের ইতিহাস। অভিযানটা শুরু হয়েছিল ২০১৩ সালে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ভূতত্ত্ববিদ যখন মানুষের চিবুকের একটি জীবাশ্ম অধ্যাপক লি বার্জারের হাতে তুলে দেন, তখন আনন্দে আত্মহারা হয়ে গিয়েছিলেন অধ্যাপক। বেশকিছু প্রত্নতাত্ত্বিক আবিস্কারের 672সঙ্গে যুক্ত জোহানেসবার্গের উইটওয়াটারস্রান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বার্জারের বুঝতে অসুবিধে হয়নি ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায় চলে এসেছে তাঁর হাতের মুঠোয়। তবে, ওই বস্তু যে মানবপ্রজাতির বিবর্তনের অগ্রগতির ভাবনাকেই বদলে দেবে, খুঁচিয়ে তুলবে আমাদের অস্তিত্বের ইতিহাসকে, তা বোধহয় বুঝে উঠতে পারেননি অধ্যাপক।

দুই বছর পর বার্জার ও তাঁর দল চুনাপাথরের সুড়ঙ্গ বেয়ে যখন জোহানেসবার্গের রাইসিং স্টার গুহায় পৌঁছল, তখন তাদের হাতে ধরা দিল আমাদের ফ্যামিলি-ট্রি-র এক নতুন যুগ। গুহার মধ্যে মাটি থেকে ৩০ মিটার গভীরের একটি কুঠুরি থেকে আবিষ্কার করা হল সদ্যোজাত, শিশু, প্রাপ্তবয়স্ক এবং বয়স্কদের একাধিক জীবাশ্ম। ওই কুঠুরিটি কবরস্থান ছিল বলে মনে করছেন বার্জার ও তাঁর সঙ্গীসাথীরা। মানুষের পূর্বপুরুষের এই নবতম সংস্করণের নাম রাখা হয়েছে হোমো নালেদি। বার্জার জানিয়েছেন, ‘কোনও শিকারীর আঘাতের চিহ্ণ নেই, বিপর্যয়ের লক্ষণ নেই। মানবজাতির পূর্বপুরুষের এই অমানব প্রজাতিকে দেখে আমরা এই সিদ্ধান্তে এসেছি যে, হোমো নালেদিদের মধ্যে এই কাল-কুঠুরিতে মৃতদেহ কবর দেওয়ার চল ছিল। তবে, সেটা তারা কেন করত তা বোঝা যায়নি।’

মানুষ ছাড়াও অন্য কোনও প্রজাতি এতটা ঝুঁকি নিয়ে প্রত্যন্ত ও গভীর এই কুঠুরিতে শেষকৃত্যের ব্যবস্থা করবে, এটা এতদিন ধারণার অতীত ছিল বিজ্ঞানীদের কাছে। বার্জারের মতে, এই আবিষ্কার নিঃসন্দেহে মানুষের জন্মের ইতিহাস নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল। এক লক্ষ্য বছর আগে আবিষ্কার হয়েছিল প্রথম অবিকৃত মানব কবরস্থান। বার্জার আবিষ্কৃত জীবাশ্মের বয়স যেহেতু এখনও হাতে আসেনি, তাই তাঁর তত্বের যৌক্তিকতা নিয়ে অবশ্য তাঁদের মনে প্রশ্ন রয়েছে। অধ্যাপক মজার ছলে বলেছেন, ‘এটা অনেকটা তুতেনখামেনের সমাধি উন্মোচনের মতো।’ জীবাশ্মটি দেখতে অবিকল মানুষের মতো। লম্বায় ৫ ফিট, কমলালেবুর আকারের মস্তিষ্ক, মানুষের মতোই হাত ও পায়ের গঠন, শুধু আঙুলের হাড়গুলি একে-অপরের সঙ্গে জোড়া। গাছে ওঠার জন্যই তাদের আঙুলের গঠন এরকম ছিল বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। তথ্যঃ বিডি খবর

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s